শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৬ ১৪২৬   ২১ মুহররম ১৪৪১

১৬৯

হনুমানের পদচারণায় মুখর যশোরের কেশবপুর

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমানের পদচারণায় মুখর যশোরের কেশবপুর উপজেলা। তবে দিনদিন হনুমানের এই ঐতিহ্যবাহী প্রজাতিটির সংখ্যা কমছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যাপ্ত খাবার ও আশ্রয়ের অভাবেই কমে যাচ্ছে কালোমুখো হনুমানের সংখ্যা।

এদিকে শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে বনায়নের মাধ্যমে এসব হনুমান সংরক্ষণের দাবি এলাকাবাসীর। যশোরের কেশবপুর উপজেলা বিরল প্রজাতির এই হনুমানের জন্য একটি পরিচিত জনপদ হিসেবে গড়ে উঠেছে। কবে থেকে এ এলাকায় হনুমানের আনাগোনা, তার নির্দিষ্ট কোনও পরিসংখ্যান না থাকলেও এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠদের মতে, ৩০০ বছর আগে কেশবপুরে এদের আবির্ভাব ঘটে।

হনুমানগুলো ১২ থেকে ১৫টি দলে বিভক্ত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিচরণ করে। ২০ থেকে ২৫টি হনুমানের প্রতিটি দলেই নেতৃত্ব দেয় একটি করে পুরুষ হনুমান। খাবারের সন্ধানে গাছের ফল ও ফসলের ক্ষতি করলেও উপজেলার ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে কালোমুখো এসব হনুমান সংরক্ষণের দাবি এলাবাসীর।

কেশবপুর উপজেলার হনুমান সংরক্ষণের জন্য প্রতিদিন সরকারিভাবে খাবার সরবারহ করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানান কেশবপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারিভাবে হনুমানের খাদ্য উপযোগী যে গাছগুলো আছে, সেগুলো বেশি করে লাগানো যেতো। বসতবাড়ি কিংবা স্কুল কলেজের রাস্তার পাশে গাছ লাগালে হনুমান সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান সংরক্ষণে সামাজিক বনায়ন জরুরি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত বলেন, ন্যাচারলি এই খাবারটা তৈরি একটা ব্যবস্থা করতে হবে। সেটা আমরা সামাজিক বনানয়নের আওতায় করতে পারি। সবপরি যেটা করা যেতে পারে। এবং হনুমান কেয়ার সেন্টার হতে পারে।

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় হনুমানের সংখ্যা এক সময় হাজারের বেশি থাকলেও বর্তমানে তা নেমে দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিনশতে।

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর
এই বিভাগের আরো খবর