মঙ্গলবার   ২০ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৫ ১৪২৬   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

৬৮

রিয়ালের কোচ হয়ে ফেরার কারণ জানালেন জিদান

প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০১৯  

৯ মাস আগে নিজে থেকেই রিয়াল মাদ্রিদের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান জিনেদিন জিদান। ৯ মাস পর সেই জিদানই আবার রিয়ালের কোচের দায়িত্ব নিলেন।

ব্যর্থতার দায়ে সান্তিয়াগো সোলারিকে বরখাস্ত করে গতকাল সোমবার রাতেই নতুন কোচ হিসেবে জিদানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে— কেন তখন দায়িত্ব ছেড়েছিলেন? কেন-ই বা আবার ফিরে এলেন? এই প্রশ্নের জবাবে জিদান দিয়েছেন চমকপ্রদ এক উত্তর। বললেন, রিয়ালের ভালোর জন্যই ৯ মাস আগে কোচের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন, আবার রিয়ালের ভালোর জন্যই ফিরে এসেছেন!

এই কথার মাহাত্ম্যটাও ব্যাখ্যা করেছেন জিদান নিজেই, ‘সত্যি বলতে, আমি ক্লাবের ভালোর জন্যই ক্লাব ছেড়েছিলাম। কারণ, সবকিছু জেতার পর দলে একটা পরিবর্তন দরকার ছিল। আবার ক্লাবের ভালোর জন্যই আমি ফিরে এসেছি। কারণ, আমি রিয়ালকে আবার সেই অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই, এই ক্লাবটা যেখানে থাকার যোগ্য।’ মানে ব্যর্থতার খোলস থেকে রিয়ালকে আবার বিশ্বসেরা রূপে ফেরাতে চান তিনি।

রিয়ালের ভালোর জন্যই ফিরেছেন। তবে এই ফেরার পেছনে কাজ করেছে একটা বিষয়। সেটি হলো— ভালোবাসা। আনুষ্ঠানিক চুক্তির পর সোমবার রাতেই তাকে নতুন কোচ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে।

পরিচয়-পর্ব শেষে নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করে জিদান বলেন, ‘আমি আবার ফিরে এসেছি। কারণ সভাপতি (ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ) আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি তাকে এবং আমার ক্লাবকে অনেক ভালোবাসি। তাই উনি ফোন করার পর আমি আর না করতে পারিনি।’

দায়িত্বটা যখন ছেড়েছিলেন, রিয়ালের মাথায় তখন টানা তৃতীয়বারের মতো ইউরোপ সেরার মুকুট। ইউরোপে রিয়ালের একচ্ছত্র রাজত্বের প্রমাণ। কিন্তু, ৯ মাসের মাথায় সেই রিয়াল এখন আশাহীন দিকভ্রান্ত পথিক। মৌসুমের তিন মাস বাকি থাকতেই রিয়ালের সব আশা শেষ!

এই সর্বজয়ী থেকে ৯ মাসের মাথায় রিয়াল সর্বহারা ক্লাবে পরিণত— ঐতিহাসিক এই বিপর্যয় থেকে রিয়াল যে শিক্ষাটা পেয়েছে, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী জিদান।

সভাপতি পেরেজকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘আমি সরে যাওয়ার পর ক্লাবে কী হয়েছে, উনি সেটা জানেন। একটা ক্লাবের খেলোয়াড়েরা ফর্ম হারিয়ে ফেলার ফল কী, সেটা আমরা সবাই জানি। আমাদের সঙ্গে এবার সেটাই হয়েছে। আপনিতো সব সময়ই জিততে পারবেন না, তাই না? এমনটা আমার সঙ্গেও হয়েছে, যখন আমি খেলোয়াড় ছিলাম। যাই হোক, আমি আবার এসেছি।’

‘আট (হবে ৯ মাস) মাস পর। আমি আবারও কোচিং করাতে চাই। আমি সবার ভালোর জন্যই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি। আজকের এই দিনটা আমার এবং আমাদের সবার জন্য বিশেষ একটা দিন। সভাপতি যেটা বললেন, আমি আমার ঘরে ফিরতে পেরে অনেক অনেক খুশি’, যোগ করেন এই ফরাসি কিংবদন্তি।

রিয়ালের প্রতি বিশেষ ভালোবাসার যে কথাটা বললেন জিদান, সেটি আসলেই সত্য। রিয়ালের দায়িত্ব ছাড়ার পর অনেক ক্লাবই কোচ করতে চেয়েছে এই ফরাসিকে। কিন্তু, জিদান কোনো ক্লাবের সঙ্গে গাটছড়া বাঁধেননি। তিনি বরং প্রিয় রিয়ালে ফেরার অপেক্ষাতেই ছিলেন!

যেমনটি নিজেই বললেন, ‘এর মধ্যে অনেক ক্লাবই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে কোচের দায়িত্ব নেয়ার জন্য। কিন্তু, রিয়াল আমার নিজের ক্লাব। তাই আমি অন্য কোনো ক্লাবের দায়িত্ব নিতে চাইনি। এখন আমার লক্ষ্য, মৌসুমের বাকি সময়টুকু ভালোভাবে শেষ করে আগামী মৌসুমের জন্য দলকে প্রস্তুত করা।’

দায়িত্ব নেয়ার পর মঙ্গলবারই দলকে নিয়ে অনুশীলনে নেমে পড়বেন বলে জানা গেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে জিদানের প্রথম অ্যাসাইন্টমেন্ট সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে লিগ ম্যাচ। ১৬ মার্চ রিয়াল এই ম্যাচটা খেলবে নিজেদের ঘরের মাঠ বার্নাব্যুতে। যে বার্নাব্যুতে এক সপ্তাহে টানা তিন ম্যাচ হেরে তিনটি শিরোপা-স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছে রিয়ালকে! যে ঐতিহাসিক ব্যর্থতার কারণেই মৌসুমের মাঝপথে দায়িত্ব উঠল জিদানের কাঁধে।

জিদানের জন্য তাই প্রথম অ্যাসাইনমেন্টটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জিং। ব্যর্থতার কাব্য রচিত হওয়া বার্নাব্যুতে জয় পতাকা ওড়ানোর চ্যালেঞ্জ। জিদান পারবেন?

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর