বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৪ সফর ১৪৪১

৮৮

ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয় খুলে আমেরিকার ফাঁদ

প্রকাশিত: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্যে বিজ্ঞাপন দেয়া হলো। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই সাধারণ একটি বিজ্ঞাপন। সেসব বিজ্ঞাপনে যা থাকে এই বিজ্ঞাপনেও আছে একই জিনিস।

বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি ওয়েবসাইটও আছে। তাতে কিছু ছবি দেয়া আছে যাতে দেখা যাচ্ছে ক্লাস রুমে বসে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে।

লাইব্রেরিরর ছবি আছে, যেখানে বসে আছে ছাত্রছাত্রীরা। আছে ক্যাম্পাসের ছবি। সবুজ মাঠের ওপর বসে শিক্ষার্থীরা আড্ডা মারছে।

এখানেই শেষ নয় এই বিশ্ববিদ্যালয়টির আছে একটি ফেসবুক পেইজও যেখানে নানা ইভেন্টের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

সবকিছু ঠিকঠাক। দেখে মনে হবে আর দশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এটিও একটি বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু আসলে তা নয়। ওয়েবসাইটে ক্লাস রুম, লাইব্রেরি আর ক্যাম্পাসের ছবি থাকলেও বাস্তবে সেরকম কিছু নেই।

এটি আসলে নাম সর্বস্ব একটি ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এর নাম দেয়া হয়েছে ইউনিভার্সিটি অফ ফার্মিংটন। কাল্পনিক এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি মিশিগান অঙ্গরাজ্যে।

কাগজে কলমে আর ইন্টারনেটে এটি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দপ্তর বা ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। এর পেছনে কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য হলো অবৈধ অভিবাসীদের আকৃষ্ট করে তাদেরকে আটক করা।

নিরাপত্তা দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ অভিবাসীরা যে অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যেতে পারে এই অভিবাসন জালিয়াতি ধরাই ছিল তাদের এই নাটকের লক্ষ্য।

এতে সফলও হয়েছে তারা। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সাজানো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাঁদে পা দিয়ে ধরা পড়েছে বহু ভারতীয় তরুণ।

বলা হচ্ছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর মোট ১৩০ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং তাদের মধ্যে ১২৯ জনই ভারতীয়।

ভুয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়টি তৈরি করা হয় ২০১৫ সালে। উদ্দেশ্য ছিল যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী স্টুডেন্টস ভিসা নিয়ে আগেই যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন কিন্তু ওই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও নানাভাবে দেশটিতে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাদেরকে ফাঁদে ফেলা।

এজন্যে বিজ্ঞাপনও দেয়া হয়। গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্যে এক বছরে ৮,৫০০ এবং আন্ডার-গ্র্যাজুয়েট ছাত্রছাত্রীদের জন্যে ১১,০০০ ডলার চাওয়া হয় সেখানে।

আসলে এর সবটাই সাজানো। পরে আদালতের যেসব কাগজপত্র প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা যায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যারা চাকরি করেন তারা আসলে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস বিভাগের গোয়েন্দা কর্মকর্তা যারা তাদের নাম পরিচয় গোপন করেছেন।

আর যে ক্যাম্পাসের ছবি দেয়া হয়েছে সেটি ডেট্রয়েটের শহরতলিতে একটি অফিসের ছবি।

এর আগেও ২০১৬ সালে বারাক ওবামার সময়ে নিউ জার্সিতে একই ধরনের একটি ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয় খুলে ২১ জনকে আটক করা হয়েছিল যাদের বেশিরভাগই ছিল চীনা ও ভারতীয়।

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর
এই বিভাগের আরো খবর