বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৪ সফর ১৪৪১

৩৫৯

ব্যবহারিক জীবনে সুন্দর ব্যবহারের গুরুত্ব

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০১৯  

মানবজীবনে সুন্দর ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম। কোরআনুল কারিমে আল্লাহতায়ালা মানুষকে সুন্দর ও উত্তম কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা মানুষের সঙ্গে উত্তম ও সুন্দর কথা বলো।’ সুরা বাকারা: ৮৩

যুগে যুগে নবী-রাসুলরা অন্ধকারে নিমজ্জিত, পথহারা, দিশেহারা মানুষদের আলোর পথ দেখাতে সক্ষম হয়েছিলেন সুন্দর আচরণের মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যার আচার-ব্যবহার সুন্দর, সে আমার সবচেয়ে বেশি প্রিয় এবং কিয়ামতের দিন সে আমার সবচেয়ে কাছে থাকবে।’ সুনানে তিরমিজি

 

সুন্দর আচরণ কাকে বলে : সুন্দর ব্যবহার সুন্দরভাবে কথা বলা সুন্দর মনের পরিচয় বহন করে। সুন্দর আচরণ বলতে আমরা বুঝি কারও সঙ্গে সুন্দর করে কথা বলা, দেখা হলে সালাম দেওয়া, কুশলাদি জিজ্ঞেস করা, কর্কশ ভাষায় কথা না বলা, ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত না হওয়া, ধমক বা রাগের সুরে কথা না বলা, পরনিন্দা না করা, অপমান-অপদস্থ না করা, উচ্চ আওয়াজে কথা না বলা, গম্ভীর বা কালো মুখে কথা না বলা, সর্বদা হাসিমুখে কথা বলা, অন্যের সুখে সুখী হওয়া এবং অন্যের দুঃখে দুঃখী হওয়া, বিপদে দেখা করে সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করা সুন্দর আচরণের অন্তর্ভুক্ত। সুন্দর আচরণের মাধ্যমে ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
উত্তম আচরণ উন্নত ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক : ভালো কথা, ভালো ব্যবহার, সুন্দর আচরণ যাই বলি না কেনÑ এগুলো হচ্ছে একটি শিল্প। সুন্দর আচরণের মাধ্যমেই একজন ব্যক্তির সার্বিক পরিচয় ফুটে ওঠে, তার উন্নত ব্যক্তিত্বের প্রমাণ মেলে। সুন্দর আচরণের মাধ্যমে একজন মানুষ তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হন। যারা সবসময় মানুষের সঙ্গে ভালো কথা বলে, সুন্দর আচরণ করে তাদের সবাই অত্যন্ত পছন্দ করে, ভালোবাসে, সম্মান ও শ্রদ্ধা করে। এমনকি আল্লাহতায়ালাও তাদের অত্যন্ত পছন্দ করেন। একটি ভালো কথা, সুন্দর আচরণ একটি ভালো গাছের মতো। সুন্দর আচরণকারীর সামনে-পেছনে মানুষ তার প্রশংসা করে। তার জন্য মন খুলে দোয়া করে। অপর দিকে খারাপ ব্যবহারে সম্পর্ক বিনষ্ট হয়। অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। সমাজের মানুষ তাকে অবহেলা, অবজ্ঞা ও ঘৃণার চোখে দেখে। তাইতো সুন্দর আচরণ চারিত্রিক সৌন্দর্যের মাপকাঠি বলা হয়েছে। এটাকে মানবচরিত্রের অপরিহার্য গুণ বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

 

সুন্দর ব্যবহারের প্রতিদান : সুন্দর আচরণ ও সুন্দর ব্যবহার মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা সন্তুষ্টি অর্জন করে পরকালে জান্নাতে যাওয়া যাবে। এ বিষয়ে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামায় সুন্দর আচরণের চেয়ে অধিক ভারী আমল আর কিছুই হবে না। যে ব্যক্তি অশ্লীল ও কটু কথা বলে বা অশোভন আচরণ করে, তাকে আল্লাহতায়ালা ঘৃণা করেন। আর যার ব্যবহার সুন্দর, সে তার ব্যবহারের কারণে নফল রোজা ও তাহাজ্জুদের সওয়াব লাভ করবে।’  -সুনানে তিরমিজি

খারাপ আচরণ বর্জনীয় : সুন্দর আচরণ অনেক বড় নেক আমল। তাই ইসলামি শরিয়তে গালিগালাজ, মন্দ ও অশ্লীল কথাবার্তা সম্পূর্ণ নিষেধ। মন্দ ও খারাপ কথার দ্বারা মানুষের চারিত্রিক অবক্ষয় হয়। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুমিনকে গালি দেওয়া ফাসেকি এবং তার সঙ্গে ঝগড়া বা লড়াই করা কুফরি।’ -সহিহ বোখারি

উত্তম আচরণ মানুষকে সম্মানিত করে : মানুষ তার উত্তম ব্যবহার ও চরিত্র দ্বারা পরিবার-পরিজনসহ সমাজকে অলোকিত করে। এমন নৈতিক শক্তির কার্যকারিতা সুদূরপ্রসারী। নবী করিম (সা.) সব সময় হাসিমুখে থাকতেন। চারিত্রিক সৌন্দর্য দ্বারা মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা যায়। ইসলাম মনে করে, গোমড়ামুখী হওয়া কোনো তাকওয়ার পরিচয় বহন করে না। ব্যক্তিগত জীবনে দেখা যায় অনেক সৎচরিত্রের অধিকারীদের চরিত্রে কোমলতা কম থাকে, মেজাজ থাকে কিছুটা কর্কশ। মুমিনের এমন চরিত্র হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। কিয়ামতের দিন এমন লোককে আল্লাহতায়ালার সামনে হাজির করা হবেÑ যার আমলনামায় নামাজ, রোজা, জাকাত প্রভৃতি নেক আমল থাকবে। কিন্তু বিভিন্ন ব্যক্তি তার মন্দ আচরণের জন্য আল্লাহর কাছে নালিশ করবে। তাই মিষ্টি হাসি, মধুর আচরণ ও কোমল চিত্তের অধিকারী হওয়া পরিবার প্রধান ও সমাজ সংস্কারকদের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য।

 

শেষ কথা : ইসলাম এমন শান্তিপ্রিয় ধর্ম, যেখানে কারও কোনো ক্ষতির চিন্তা মাথায় আসতেই পারে না। অথচ আজ কতই না এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে, ভাই ভাইকে হত্যা করছে, ছেলে পিতা-মাতাকে হত্যা করছে, নিষ্পাপ শিশুদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হচ্ছে। অথচ আল্লাহতায়ালার আদেশ হচ্ছে, তোমরা সবার সঙ্গে সদয় ব্যবহার করো। তাই সবার উচিত ধনী-গরিব, জাতি, ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা।

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর