রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৬ ১৪২৬   ২২ মুহররম ১৪৪১

২৯৬

ফ্যাশন এখন নাকফুলে

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ঐতিহ্যগত নথ থেকে আধুনিককালের নাক রিং বা নাকফুলের উৎপত্তি। পূর্বে শুধুমাত্র বিবাহিত মহিলা বোঝানোর জন্য নাকফুল পরিধান করা হতো। কিন্তু বর্তমানে যুগোপযোগী ফ্যাশন হিসেবে তরুণিরা বেছে নিয়েছে নাকফুলকে। প্রাচ্যে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ও এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই ফ্যাশনের সাহায্যে নিছক সৌন্দর্যের তুলনায় সাধীনতাও সৃষ্টি হয়েছে।

 

নাকফুল একটি ঐতিহ্যগত ফ্যাশন যা আপনার চেহারার পার্থক্য করতে পারে। এটি চেহারাকে আকর্ষনীয় করে তোলে এবং দেখতেও ভীষণ মিষ্টি দেখায়। পশ্চিমা বা দেশিয় যেকোন ধরনের পোশাকের সঙ্গে বেশ মানিয়ে যায়।

আজকের এই নাকফুল কথন শুধুমাত্র তাদের জন্য লেখা যারা নাক ফোঁড়াতে আগ্রহি। উঠতি বয়সের কিশোরী বা তরুণীদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নাকফুল। বিশেষ করে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণীরা এটিকে স্মার্টনেস হিসেবে দেখছে।

 

ফোঁড়ানোর পদ্ধতি
দুই পদ্ধতিতে নাক ফোঁড়ানো যায়। ১. সুঁই -সুতো ২. মেশিনের সাহায্যে। সুঁই-সুতোয় খরচ পড়ে ৫০-১০০ টাকা। সুঁই সুতো যাদের ভয় হয় তারা পার্লারে মেশিনের সাহায্যে করাতে পারেন। এতে খরচ পড়বে  ৩০০-৫০০ টাকা। নাক-ফোঁড়ানোর ২-৩ দিনের মধ্যে সুতা বা পার্লার থেকে পড়িয়ে দেয়া এমিটিশনের নাকফুলটি খোলা যাবে না। এটি খোলার পর অবশ্যই স্বর্ণের নাকফুল পরিধান করতে হবে। এতে করে নাক পেঁকে যাওয়ার ভয় থাকে না এবং ব্যথা তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যায়। নাক না ফুঁড়িয়েও নাকফুল পড়া যায়। এক্ষেত্রে টিপ নাকফুল পড়তে হবে।

বাহারি রকমের নাকফুল
বাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি রূপা ও এন্টিকের তৈরি নাকফুল পাওয়া যায়। এছাড়াও হিরা, মনি, মুক্তা, পান্নার পাথর বসানো নাকফুলের প্রচলনও রয়েছে বেশ। সাদা পাথর বসানো স্বর্ণের বা হিরার তৈরি নাকফুল তরুণীদের পছন্দের তালিকায় প্রথম। চাহিদা অনুযায়ী বাজারে বিভিন্ন কাটের ও নকশার তৈরি করা নাকফুল পাওয়া যায়।

ছোট, বড়, মাঝারি সাইজের একটি পাথর বসানো নাকফুল। এছাড়াও ফুল, পাতা, ত্রিভুজাকৃতি, চৌকোন, পাখির নকশাকৃতি বিভিন্ন কাটের নাকফুল কিনতে পাওয়া যায়। এছাড়াও স্বর্ণের প্রলেপ বসানো রূপার তৈরি নাকফুল সহজলভ্য হওয়ায় বেশ জনপ্রিয়। নাকফুলের পরিবর্তে চাইলে চাপা নথ ও ব্যবহার করা যায়।

 

মুখের সাথে মানাসই নাকফুল
মুখের আকৃতির সংগে মানাসই একটি নাকফুল বদলে দিতে পারে আপনার চেহারার সৌন্দর্য। পূর্বে নাকের বাম দিকে নাকফুল পরার প্রচলন ছিল, কিন্তু বর্তমানে বাম দিকের পাশাপাশি ডান দিকেও নাকফুল পরছে মেয়েরা।

উৎসবে নাকফুল
বিভিন্ন উৎসব,অনুষ্ঠানে নানা ধরনের নাকফুল বেশ মানানসই। গায়ে হলুদ, বিয়ে, বৌভাত,

পূজা বা দেশীয় যেকোনো উৎসবে নাকফুল পরিধানে সুন্দর ও আকর্ষণীয় দেখায়। এক্ষেত্রে নথ, বড় পাথরের বা টিপ নাকফুল ভাল মানায়।দেশি বা পাশ্চাত্য যেকোন ধরনের পোশাকের সংগে নাকফুল বেশ মানিয়ে যায়। সৌন্দর্য ও দিগুণ বেড়ে যায়।

দরদাম
স্বর্ণের তৈরি নাকফুলের দাম পড়বে ৮০০-১২০০টাকা। এছাড়াও ছোট- বড় পাথর বসানো স্বর্ণের নাকফুলের দাম পড়বে ৫০০-৮০০টাকা। হীরা বসানো নাকফুলের দাম পড়বে ৪০০০-২০,০০০টাকা। এন্টিকের তৈরি নাকফুলের দাম ৩০-১০০টাকা। এমিটিশনের তৈরী নাকফুলের দাম ২০-১৫০ টাকা।

 

কোথায় পাবেন
দেশের যেকোন শপিং সেন্টার যেমন বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, যমুনা ফিউচার পার্ক, ইস্টার্ন প্লাজা, বায়তুল মোকাররাম জামে মসজিদ ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, চাঁদনি চক, নিউ মার্কেট কিংবা যেকোন স্বর্ণের দোকানে খোঁজ মিলবে আপনার পছন্দের নাকফুল।

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর