বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৫ ১৪২৬   ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

১৩৮

ফুসফুসের যত রোগ

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০১৯  

ফুসফুসের প্রধান কাজ হলো বাতাস থেকে অক্সিজেন রক্তপ্রবাহে নেয়া এবং রক্তপ্রবাহ হতে কার্বন ডাই অক্সাইড বাতাসে নিষ্কাশন করা। এই যন্ত্রটি দেহের একটি অপরিহার্য অংশ। কিন্তু ফুসফুসে জীবাণু ও দূষণের কারণে সাধারণত বিভিন্ন প্রকার রোগ হয়ে থাকে। যেকোনো মানুষের এই রোগ হতে পারে যা সময় মত চিকিৎসা করাতে না পারলে প্রাণঘাতীও হতে পারে। আসুন আজ জেনে নেই ফুসফুসের কিছু রোগ ও তাদের থেকে পরিত্রান পাওয়ার উপায় সম্পর্কে-

ফুসফুসীয় রোগের কারণ-

১। ধূমপান ও মাদকদ্রব্য।

২। বিশ্রামহীন জীবনযাপন।

৩। অপুষ্টি

৪। অতিরিক্ত ইসাইক্লিক ওষুধ গ্রহণ।

৫। ফুসফুসীয় জীবাণু দূষণ।

রোগের লক্ষণ সমূহ-

১। কাশি উঠে আবার নাও উঠতে পারে।

২। শ্বাসকষ্ট হয় এবং শ্বাস প্রশ্বাসের সময় শব্দ হতে পারে।

৩। রোগী খুব দুর্বল হয়।

৪। ঘন ঘন প্রস্রাব হয়।

৫। পায়ের গোড়ালী বা পা ফুলে যায় এবং গিটগুলো ব্যথা করে।

৬। অস্বাভাবিক ঘুম।

প্রাথমিক চিকিৎসা

১। রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে।

২। খুব বেশী পরিশ্রম করা যাবে না।

৩। অ্যালকোহল বা অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় এবং ধূমপান সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে।

৬। পারলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।

৭। স্বাভাবিক নরম খাবার খেতে হবে।

বুকে ব্যাথাকাশি  স্বাসকষ্ট

বুকে ব্যাথা কোনো রোগ না। তবে তা কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে। বুকে ব্যাথা হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

রোগের কারণ

১। প্লুরাইটিক বুকে ব্যাথা - সাধারণত নিউমোনিয়া বা অন্য শ্বসন তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

২। ইশকেমিক কার্ডিয়াক ব্যথা-হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশান (এম আই) জনিত সমস্যার জন্য।

৩। গ্যাস্ট্রিকজনিত সমস্যার কারণে।

৪। বুকের অধিক মাংসপেশীর কারণেও হতে পারে।

রোগের লক্ষনসমূহঃ

১। প্লুরাইটিক বুকে ব্যাথা: সাধারণত বুকের বিশেষ কোনো অংশে এটা হয় আর সাধারণত বুকের মাঝে এই ব্যথা হয় না, বা কম হয়। দেখা যায় ব্যাথার ধরণ অনেকটা স্টাবিং (ওই অংশে ছুরি চালানোর মতো) ধাঁচের হয়, যা সাধারণত অন্য কোথাও ছড়ায়না, যদিও ক্ষেত্র বিশেষে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়।

খাবার  চিকিৎসা-

১। নিকটস্থ বিশেষজ্ঞ কোনো ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে হবে এবং কারণ অনুযায়ী তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করা উত্তম।

২। গ্যাস্ট্রিকজনিত ব্যথা হতে পারে।

৩। গ্যাসের ব্যথার থেকে রেহাই পেতে পিপারমিন্ট, কেমোমাইল কিংবা ফিনেল দিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন।

বুক জ্বালাপোড়ার কারণ

১। গ্যাস্টিকের কারণে সাধারণত হয়ে থাকে।

২। ভাজাপোড়া খেলে।

৩। অতিরিক্ত ধূমপান করলে বা অ্যালকোহল সেবন করলে।

রোগের লক্ষণ সমূহ-

১। বুকে ব্যাথা হওয়া, বিশেষত সামনের দিকে ঝুকলে কিংবা শুয়ে পড়ার সময়।

২। উদরের উপরের দিকে মৃদু ব্যথা হওয়া।

৩। বুকে জ্বালাপোড়া হওয়া ঠিক বুকের মাঝ বরাবর উপর থেকে নিচে। অর্থাৎ স্টারনামের পেছনে জ্বালাপোড়া হওয়া, বিশেষত খাওয়া দাওয়ার পর এই জ্বালা পোড়া শুরু হয়।

১। নিকটস্থ বিশেশজ্ঞ কোনো ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে হবে এবং কারণ অনুযায়ী তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করা উত্তম।।

২। বুক জ্বলা পোড়ার কষ্ট থেকে ক্ষত নিরাময় পেতে আদা চা খেতে পারেন।

৩। ঠিক ঘুমাতে যাবার আগ দিয়ে খাওয়া দাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন।

কাশি  শ্বাস-কষ্ট

এটা কোনো রোগের মধ্যে পড়ে না। বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হিসাবে ধরা হয়। বিভিন্ন কারণে কাশি বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। যেকোনো মানুষেরই কাশি বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

রোগের কারণ-

১। বিভিন্ন রোগ জীবাণুর সংক্রমণের ফলে হতে পারে।

২। ঠাণ্ডা লাগার কারণে।

৩। ধুলাবালি নাকে প্রবেশ করলে।

৪। অ্যালাৰ্জিজনিত রোগের কারণে।

৫। ধুমপান ও মাদকদ্রব্য সেবনে।

৬। পালমোনারী প্রোফোসিস।

৭। সন্তান প্রসব, মাইট্রাল স্টেনোসিস, সার্জিক্যাল অপারেশনের পর।

রোগের লক্ষণসমূহ-

১। হঠাৎ রোগীর কাশি শুরু হয় এবং শ্বাসকষ্ট হয়। পিঠে ঠেস দিয়ে বসলে আরাম লাগে।

২। কাশি উঠে আবার কখনো উঠে না।

৩। কাশির জন্য বুকে ব্যথা হতে পারে।

৪। কাশির সঙ্গে জ্বর থাকলে জীবাণুর ইনফেকশন বোঝায়।

৫। শ্বাসকষ্টের সময় বুকের বাম পাশে অথবা দুই পাশেই।

খাবার  চিকিৎসা

১। নিকটস্থ বিশেষজ্ঞ কোনো ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে হবে এবং কারণ অনুযায়ী তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করা উত্তম।

২। প্রয়োজনে অক্সিজেন দিতে হবে।

৩। ঠাণ্ডা লাগানো যাবে না, গলায় মাফলার ব্যবহার করতে হবে।

৪। জোরে কথা বা বেশী কথা বলা যাবে না।

প্লুরিসি

ফুসফুসের উপরের প্লুরা নামক পাতলা আবরণীর প্রদাহকে প্লুরিসি বলে। বুক ও ফুসফুসের মধ্যবর্তী অংশ একটু ফাঁপা, এ ফাঁপা স্থানের নাম প্লুরাল কেভিটি। খুরাল কেভিটির মধ্যে জলীয় পদার্থ না থাকলে তাকে ড্রাই প্লুরিসি বলে এবং জলীয় পদার্থ থাকলে তাকে ওয়েট প্লুরিসি বলে।

রোগের কারণ-

১। যক্ষার জীবাণু।

২। নিউমোকক্কাল, স্ট্রেপটোকক্কাল, স্টাফাইলোকক্কাল প্রভৃতি জীবাণু।

৩। ক্যান্সারের কারণেও হতে পারে।

রোগের লক্ষণসমূহ-

১। শ্বাস টানার সময় হঠাৎ বুকে খচ খচ করে এবং ব্যথা হয়।

২। রোগীর বুকে হাত দিলে অদ্ভুত ধরনের একটা অনুভূতি হয়।

৩। স্টেথিসকোপের দ্বারা বুকে কম বেশী খস খস শব্দ শোনা যায়।

৪। রোগী আক্রান্ত পাশে শুইতে ভালবাসে।

৫। জ্বর প্রায় সবসময় থাকে।

ওষুধ  চিকিৎসা

১। উপরোক্ত রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

২। এক্স-রে করলে রোগের সুস্পষ্ট তা বোঝা যায়

৩। রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।

৪। যক্ষা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মত চলতে হবে।

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর