বুধবার   ২৩ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৩ সফর ১৪৪১

১৯৫

পৃথিবীতে মানুষ উধাও হয়ে গেলে কী হবে? 

প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

আপনি কি একবারও ভেবে দেখেছেন যদি পৃথিবী থেকে হঠাৎ সব মানুষ উধাও হয়ে যায় তবে এই পৃথিবীর কী হবে?  কি হবে মানুষ ছাড়া মানুষের তৈরি এই নির্মাণের? কিভাবে এই পৃথিবীতে বসবাস করবে বাকি প্রাণীর? আমাদের আজকের   আলোচনায় থাকছে যে যদি পৃথিবীতে মানুষ না থাকে তবে কি হবে এই পৃথিবীর? 

অনুমান করা যাক যে, মানুষ চলে যাওয়ার পর পৃথিবীর কি অবস্থা হবে? সবার প্রথমে যে পরিবর্তনটা হবে এই পৃথিবীতে সেটি হল পৃথিবীর সব আলো ধীরে ধীরে নিভে যাবে। কারণ পৃথিবীর অধিকাংশ পাওয়ার স্টেশন ফসিল ফিউল এর সাহায্যেই চলে। আর এগুলোকে চালায় মানুষ। তাহলে মানুষ না থাকলে এগুলো চলবে কি করে। মানুষ ছাড়া এই পৃথিবীতে মাত্র ৪৮ ঘন্টা পর পৃথিবীর সব নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট সেফটি মুডে চলে আসবে। কারণ এনার্জি কনজামশন কমে যাবে। সব উইন্ডমিল ততক্ষণ চলবে যতক্ষণ তাদের মধ্যে লুব্রিকেন্ট থাকবে। 

আর আস্তে আস্তে সব সোলার প্যানেল কাজ করা বন্ধ করে দেবে। কারণ সেগুলোকে পরিষ্কার ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কেউ থাকবে না। ফলে সোলার প্যানেলের উপরে মাটি জমতে থাকবে। আর এই অবস্থায় সম্পূর্ণ পৃথিবীকে মহাকাশ থেকে কালো দেখাবে। কিন্তু কিছু জায়গায় মানুষ ছাড়াও সিস্টেম কাজ করতে থাকবে। যেমন কিছু ড্যাম এমন আছে যারা পানি দ্বারা একটিভ হয়। যেমন চায়নার চিঁ গজেজ ড্যাম, ইউএস এর হুয়া ড্যাম। 

এমন সব সিস্টেম মাসের-পর-মাস চলতে থাকবে এবং বিদ্যুৎ তৈরি করতে থাকবে। কিন্তু মানুষের অন্যতম সৃষ্টি মেট্রো সিস্টেম কিছুদিনের মধ্যে সম্পূর্ণ পানির তলায় চলে যাবে। প্রত্যেকটি মেট্রোর আন্ডারগ্রাউন্ড প্যাসেজের সাইডে পাম্প তৈরি করা থাকে। যাতে মেট্রোতে পানি না ঢুকে। আর যখন পাম্পগুলো খারাপ হয়ে যাবে তখন মেট্রো সম্পূর্ণ পানির নিচে চলে আসবে। কিন্তু মানুষ ছাড়াওতো এই পৃথিবীতে  মিলিয়নেরও বেশি প্রজাতির প্রাণী বসবাস করে। তাদের কি হবে? প্রথমে তো মানুষ দ্বারা পালিত সব রকমের পশু ক্ষুধায় মারা যাবে। যারা বাইরে খাদ্যের খোঁজে বের হবে তাদের বাইরের জংলি পশুরা মেরে খেয়ে ফেলবে। আর যত গবাদি পশু যেমন মুরগি, গরু, ছাগল এর আস্তে আস্তে সবাই মরে যাবে। কারণ তাদের দরকারি খাবার জোগাড়ের জন্য তাদের মালিকেরা থাকবে না। কিন্তু পশুপাখি আরো বিপদে পড়বে মানুষ পৃথিবী থেকে উধাও হওয়ার এক মাস পর থেকে। 

বিদ্যুৎ তৈরিতে যত কয়লা ব্যবহৃত হয় তার সব তরল হতে শুরু করবে। যার ফলে প্রত্যেকটি কয়লার পাওয়ার প্ল্যান্ট ধীরে ধীরে গলতে থাকবে এবং হঠাৎ ফেটে যাবে। এর ফলে তৈরি হবে রেডিয়েশন। যার দরুণ লাখ লাখ প্রাণী ঐ রেডিয়েশনের প্রভাবে মারা যাবে। ঠিক এক বছর পর পৃথিবীতে বেঁচে থাকা বাকি প্রাণীরা আকাশে অনেক তারাকে পৃথিবীর দিকে পড়তে দেখবে। কিন্তু আসলে এগুলো তারা হবে না। মানুষেরই তৈরি বিভিন্ন যন্ত্র যা এতদিন মানুষ মহাকাশে পৌঁছেছে। যেমন স্যাটেলাইট যা মানুষ ছাড়া অকেজো হয়ে পড়বে এবং পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের টানে নিচে আস্তে থাকবে এবং বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে এসে গতির প্রভাবে তা আগুনে পরিণত হবে। যা পৃথিবীর নিচ থেকে দেখে উল্কাপাত মনে হবে। 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী আবার নিজের মতো হতে শুরু করবে। মানুষ দ্বারা তৈরি পলিউশন রেডিয়েশন খুব তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে দূর হবে। কারণ নতুনভাবে এসব তৈরি করার মতো কেউ থাকবে না। প্রাণীরা আবার নতুন করে জন্ম নিতে শুরু করবে। দুবাই, রাজস্থান, মিশরের মত শহরগুলো এবং দেশগুলোর বালির উপর তৈরি, তাই এই শহরগুলি আস্তে আস্তে সম্পূর্ণ ধুলা মাটির নিচে চলে যাবে। আর বাকি সব শহরগুলোর রাস্তাঘাট জঙ্গলে পরিণত হবে। সব বাড়ি ঘর বিল্ডিংয়ে উদ্ভিদ জন্ম নিবে। যা পরিনত হবে জীবিত পশুপাখিদের বাসস্থানে। কারণ এসময় গাছপালা কাঁটার মতো কেউ থাকবে না। 

এভাবে কিছু সময় চলতে থাকার পর প্রায় ৩০০ বছর পর মানুষের অধিকাংশ বড় বড় মেটালের তৈরি নির্মাণ যেমন আইফেল টাওয়ার, লন্ডন ব্রিজসহ বাকি সব ব্রিজ এবং বড় বড় বিল্ডিং ভেঙ্গে পড়তে শুরু করবে। শুধু মাত্র মরিচা ধরে বা কোনো রকম মেইন্টেনেন্টস না হওয়ার কারণে। এই নির্মাণগুলো ধ্বংসের ফলে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি সব স্থানে প্রসারিত হবে। পানি এই ছড়িয়ে যাওয়াতে পশু পাখিদের অনেক বেশি সুবিধা হবে। যার ফলে নতুন নতুন প্রজাতির প্রাণীরা জন্ম নিতে শুরু করবে। হয়তোবা লুপ্ত হওয়া প্রাণীরা আবার জন্ম গ্রহণ করবে। মানুষের চলে যাওয়াতে শুধুমাত্র স্থলভূমি এবং স্থলভূমির প্রাণীদেরই সুবিধা হবে তা কিন্তু নয়। পানি এবং জলজ প্রাণীদের জীবন যাপনে উন্নতি আসবে। আর তার কিছু সময় পর সব শহর পরিবর্তন হতে হতে প্রকৃতির সৌন্দর্যে পরিণত হবে। 

এক হাজার বছর পর মানুষের নির্মাণের শুধুমাত্র কিছু চিহ্ন থাকবে, যেমন পিরামিড, চায়নার গ্রেট ওয়াল। আর এক লাখ বছর পর তাও অবশিষ্ট থাকবে না। কিন্তু থাকবে কিছু জিনিস যা মানুষের তৈরি করা। তা হলো- প্লাস্টিকের বোতল, প্লাস্টিকের তৈরি দ্রব্য এবং প্লাস্টিকের নোংরা আবর্জনা। তবে প্রায় ৫০ লাখ বছর পর তাও থাকবে না। অর্থাৎ তারপর যদি পৃথিবীতে কোনো রকম বুদ্ধিমান সভ্যতার সৃষ্টি হয় তারা হয়তো কোনদিনো জানতেই পারবে না এই পৃথিবীতে আমার আপনার মত মানুষের বসবাস ছিল। তাহলে এটা বোঝা কঠিন না যে, আমরা আমাদের পরিবেশকে কতটা ক্ষতি করে থাকি, তাই একটু সচেতন হবেন এবং কারণ সেই সচেতনতা আমাদেরই উপকারে আসবে। 

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর