মঙ্গলবার   ২০ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৫ ১৪২৬   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

৭৬

পা-মুখ-শরীর, সব দিয়েই জবাব রোনালদোর!

প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০১৯  

দুয়ো, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের জবাব কতভাবে দেওয়া যায়? যতভাবে সম্ভব, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো জবাবটা দিলেন সেভাবেই! মোক্ষম জবাবটা দেওয়ার ছিল পায়ে। সেটি তিনি দুর্দান্তভাবেই দিয়েছেন, অসাধারণ এক হ্যাটট্রিক করে। তবে শুধু পায়ের জবাবেই সন্তুষ্ট থাকেননি জুভেন্টাসের পর্তুগিজ তারকা। গতকাল রাতে দ্বিতীয় লেগে হ্যাটট্রিক করে জুভেন্টাসকে ৩-০ গোলে জেতানোর পর রোনালদো অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদকে জবাব দিয়েছেন মুখেও।

ভুল করেননি গোল করার পর শারীরিক ভাষায় জবাব দিতেও। রোনালদোর এভাবে জবাব দেওয়ার মাহাত্ম্যটা ফুটবলপ্রেমী মাত্রই বুঝে ফেলার কথা। গত ২০ ফেব্রুয়ারি অ্যাতলেতিকোর মাঠে এসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলর প্রথম লেগটিতে ২-০ গোলে হেরে যায় জুভেন্টাস। রোনালদো সেদিন কোনো গোলই করতে পারেননি। অ্যাতলেতিকোর সমর্থকেরা তাই রোনালদোকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছিল। রোনালদোর কাটা গায়ে নুন ছিটাতে গাই তুলেছিল ‘অ্যাতলেতিকো ২ : রোনালদো ০!’ দিয়েছিল দুয়োও।

হাতের ৫ আঙুল দেখিয়ে রোনালদো সেদিনই অন্য রকম এক জবাব দিয়েছিলেন। তবে মোক্ষম জবাবটা দেওয়ার ছিল কালকের ফিরতি লেগে। পর্তুগিজ সুপারস্টার সুযোগটা কাজে লাগিয়েছেন অবিশ্বাস্যভাবে। ২-এর জবাবে তিনি কাল করেছেন ৩ গোল। মানে হ্যাটট্রিক। তার একার আগুনেই পুড়ে ছাই হয়েছে অ্যাতলেতিকো। প্রথম লেগের ২-০ গোলের জয়ের পরও ছিটকে পড়েছে টুর্নামেন্ট থেকে।

মাঠে বল পায়ে এই অবিশ্বাস্য জাদু দেখানোর পর মুখে কিছু বলার দরকার ছিল না। কিন্তু মনের খেদ মেটাতে ম্যাচ শেষে পর্তুগিজ তারকা নিজের মুখটাও ব্যবহার করেছেন। বলেছেন, ‘আমরা প্রমাণ করেছি, আমরা পারি। দেখিয়েছি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দলের মানসিকতাটা কেমন হওয়া উচিত।’

এটা বলে এক দিক দিয়ে নিজ দল জুভেন্টাসের যেমন প্রশংসা করেছেন, তেমনি প্রতিপক্ষ অ্যাতলেতিকোকেও একটা খোঁচা মেরেছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রথম লেগে ২-০ তে এগিয়ে থাকার পরও অ্যাতলেতিকো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ল স্রেফ মানসিকতায় ঘাটতি থাকার কারণে।

পা এবং মুখ, এই দুটো জবাবই মূলত ছিল অ্যাতলেতিকোর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে। পাশাপাশি অ্যাতলেতিকোর আর্জেন্টাইন কোচ দিয়েগো সিমিওনেকে জবাবটা দিয়েছেন তার ভাষাতেই। প্রথম লেগে দল প্রথম গোল পাওয়ার পর বিতর্কিত উদযাপন করে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন সিমিওনে। এমনকি গুণতে হয়েছে জরিমানাও। নিজের যৌনাঙ্গ ধরে অশোভন ভঙ্গিতে উদযাপন করায় অ্যাতলেতিকোর আর্জেন্টাইন কোচকে ২০ হাজার ইউরো জরিমানা করে উয়েফা। মৌখিক সতর্ক করেছে ফিফাও।

তবে উয়েফা-ফিফার সেই শাস্তিতেও রোনালদোর মনের ক্ষোভ মিটেনি। সেই ক্ষোভ তিনি মিটিয়েছেন কাল, গোল করার পর সিমিওনের সেই উদযাপন অনুকরণ করে। রোনালদোর উদযাপনটা সিমিওনের মতো অতটা অশোভন হয়তো ছিল না। তিনি সিমিওনের মতো সরাসরি যৌনাঙ্গ ধরে বসেননি। তবে রোনালদোর উদযাপনের ভঙ্গিটা প্রায় একই ছিল। ম্যাচ শেষে সিমিওনে নিজেই বলেছেন, ‘তাকে নকল করতেই সমর্থকদের সঙ্গে অমন উদযাপন করেছেন রোনালদো!’

এখন কথা হলো, সিমিওনে তো অশোভন উদযাপন করে শাস্তি পেয়েছেন, জরিমানা গুণেছেন। তা নকল করে রোনালদোকেও জরিমানা গুণতে হবে না তো?

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর