মঙ্গলবার   ২০ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৫ ১৪২৬   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

৪৮৪

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে তারেক ও ফখরুল

প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর ২০১৮  

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেছেন, লন্ডনে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমান পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং দেশে মির্জা ফখরুল পাকিস্তানি দূতাবাসে গিয়ে গোপন বৈঠক করে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামির নেতৃত্বে যে দল, ঐক্যফ্রন্ট চলছে, তাদের পক্ষে বাংলাদেশের জনগণ আজ নেই। জনগণ সাড়া দিচ্ছে না বলেই তারা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

আজ সোমবার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রতীক বরাদ্দ নেওয়ার পর শহরের আবদুল মালেক উকিল সড়কের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি বিদেশিদের কাছে শুধু নালিশ দিচ্ছে না, সর্বশেষ খবর, লন্ডনে বসে তারেক রহমান পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে বৈঠক করছে। এই বৈঠকগুলো কেন? ঢাকায় মির্জা ফখরুল পাকিস্তানি দূতাবাসে গিয়ে গোপন বৈঠক করছে। এই বৈঠকের অর্থ কী? এই বৈঠকের অর্থ হচ্ছে নির্বাচন বানচাল করা। সেই ষড়যন্ত্র তারা করছে।

ওবায়দুল কাদের জানতে চান, ‘পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা এখানে নির্বাচনে কী করবে? তাদের কী করণীয় আছে? আমার দেশের ভোট দেবে আমার দেশের জনগণ। সেখানে পাকিস্তানের কী করার আছে? পাকিস্তানের সঙ্গে তাহলে বৈঠক কেন? আরও গোয়েন্দা সংস্থা।’ তিনি বলেন, তাঁরা যা আজকে করছেন, তাঁরা যদি মনে করেন, ২০০১ সাল আবারও ফিরে আসবে, ২০১৪ সালের আবারও তাঁরা পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন, তাঁরা বোকার স্বর্গে আছেন।

নির্বাচন আদৌ হবে কি না—চায়ের দোকানে আড্ডায় ভোটারদের এমন শঙ্কার বিষয়ে একজন সাংবাদিক জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি শতভাগ আশাবাদী। এবার বাংলাদেশের জনগণ কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে নতি শিকার করবে না। বাংলাদেশের জনগণ যেকোনো পরিস্থিতিতে ভোট দিতে প্রস্তুত।’ তিনি আওয়ামী লীগ বিজয়ের মাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বেশির ভাগ আসনে বিজয়ী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী মাত্র সাতজন। এটা ইতিহাসে বিরল। যাঁরা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, তাঁরাও প্রত্যাহার করে নেবেন। তাঁরা সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন, তাতেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার হয়ে যায়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিদ্রোহী নিয়ে দুর্ভাবনা হচ্ছে বিএনপির, ঐক্যফ্রন্টের। তাদের জিজ্ঞেস করুন। বিদ্রোহী নিয়ে আমাদের দুর্ভাবনা নেই। তাদের মনোনয়নপত্র টিকেছে ৫৫৫ জনের। এর মধ্যে কয়জন বসেছে। আমার মনে হয় খুবই কমই আছে, যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে আছে।’ তিনি আরও বলেন, তাদের ঘরের বিবাদ বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে। মির্জা ফখরুল নিজেই দলের কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। তাঁর গাড়িতে, গুলশান অফিসে, পল্টন অফিসে হামলা, দফায় দফায় হামলা হচ্ছে। তালা ভাঙছে, তালা লাগাচ্ছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি আগেও বলেছিলাম, তারা খুব সংকটে পড়বে। কারণ, তারা মনোনয়ন–বাণিজ্য করেছে। এটা এখন প্রমাণিত। তাদের মনোনয়নবঞ্চিতরা ভাঙচুর করছে, হামলা করছে। ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রুমে লাথি মারছে, হামলা করছে। বলছে, হয় মনোনয়ন দাও, নয় টাকা ফেরত দাও। এটা নিয়ে বিএনপি বিক্ষোভের মুখে আছে।’

সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে অন্যদের মধ্যে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ এবং দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মমিন, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ, সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র সহিদ উল্যাহ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর
এই বিভাগের আরো খবর