রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৬ ১৪২৬   ২২ মুহররম ১৪৪১

১৬৯

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবতার দেয়াল

প্রকাশিত: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  

সম্প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গড়া মানবতার দেয়ালের খবর ছড়িয়ে পড়েছে সারাবিশ্বে। শিক্ষক নাজনীন মিষ্টির ‘মহানুভবতার দেয়াল’ এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের আনাচে-কানাচে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ‘মানবতার দেয়াল’ তৈরি হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মো. আশিকুর রহমান-

সময়টা শীতকাল। এখন কেউ দামি ট্রাকস্যুট পরে চলাফেরা করে আর কেউবা ছেড়া, পাতলা পোশাক। অর্থের অভাবে এদের শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা কাটে একইভাবে। তাই মানুষের একটি সদিচ্ছায় হয়তো অন্য একজনের প্রয়োজনের খোরাক হতে পারে।

 

মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের ব্যবহারের অতিরিক্ত এবং অপ্রয়োজনীয় কিন্তু ব্যবহারযোগ্য অনেক শীতের পোশাক আমাদের ঘরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়ে যায়। অথচ একটু আন্তরিক সদিচ্ছাতেই হয়তো কোনো শীতার্ত মানুষ ব্যবহার করে উপকৃত হতে পারে।

> আরও পড়ুন- মনের অন্ধকার দূর করে বই 

deyal-in

এই শীতের তীব্রতা থেকে কিছুটা হলেও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, হতদরিদ্র, অসহায় মানুষের পাশে উষ্ণতা ছড়াতে মানবতার আলোকবর্তিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সংগঠন ‘রংধনু’।

বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত বটতলার পাশে রংধনু সংগঠনটি গড়ে তোলে ‘মানবতার দেয়াল’। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও সংগঠনগুলো গড়ে তুলছে এই মানবতার দেয়াল। সহযোগিতার এই প্রক্রিয়া অল্প সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

মানবতার দেয়ালটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বটতলা সংলগ্ন হওয়ায় এলাকার দরিদ্র মানুষ প্রয়োজনীয় কাপড় সংগ্রহ করতে পারবে সহজে। দেয়ালটির কার্যক্রম শুরু করার পর অনেকেই নিজের অপ্রয়োজনীয় কাপড় রেখে যাচ্ছেন এবং অনেকেই সেখান থেকে নিজের প্রয়োজনীয় কাপড় নিতে পারছেন।

> আরও পড়ুন- বাদাম বিক্রির টাকায় ভাইকে পড়াচ্ছেন মোজাহার 

deyal-in-(2)

সংগঠনটির সভাপতি শাওন জুবায়েদ বলেন, ‘আমরা স্বেচ্ছাশ্রমের মধ্যদিয়ে বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। প্রাণ-প্রকৃতির সাথে মিশে দেশটাকে ভালোবাসতে চাই।’

সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান শিমুল বলেন, ‘মানবতার দেয়াল আমাদের সংগঠনের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ দেখে যেন অন্যরাও এগিয়ে আসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়টি গ্রামবেষ্টিত, সে কথা বিবেচনায় এনেই এ পদ্ধতি অনুসরণ করেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সুন্দর ও সৌহার্দপূর্ণ সমাজ নির্মাণে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে আমাদের। এ ক্ষেত্রে মানবতার দেয়াল যে অসাধারণ কর্মযজ্ঞ গ্রহণ করেছে, তা সত্যি প্রশংসনীয়।’

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর
এই বিভাগের আরো খবর