বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৪ সফর ১৪৪১

১৫৩

ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যায় শিক্ষার্থীরা, ভুনবীর থেকে মির্জাপুর সড়কে

প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০১৮  

প্রতিদিনই জীবন মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয় তাদের। তবে তাদের উদ্দেশ্য একটাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও শিক্ষার আলোয় নিজেকে আলোকিত করা। তাই প্রতিনিয়ত এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করে কোমলমতি এসব শিক্ষার্থী। সবার চোখের সামনে কোমলমতি এসব শিক্ষার্থী এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করলেও সমাজের কর্তাব্যক্তিরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। খানাখন্দে ভরা রাস্তা আর যানবাহনের অপ্রুতুলতায় চরম ভোগান্তিতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রাচীনতম এলাকা ভূনবীর, মির্জাপুর ও বৌলাশির গ্রামের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষজন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভুনবীর থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় পনেরো কিলোমিটার রাস্তা খানাখন্দে ভরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। স্থানীয়দের অভিযোগ নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করার ফলে অল্প সময়েই সড়কের পিচ উঠে গিয়ে খানাখন্দ আর বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। রাস্তার কারণে এ সড়কে যানবাহন কমে গেছে বলেও জানান স্থানীয়রা।

সিএনজি চালক রহিম জানান, খানাখন্দে ভরা এই রাস্তায় গাড়ি চালালে প্রচন্ড ক্ষতির শিকার হন চালকরা। গত এক সপ্তাহে আমার গাড়ির এক্সেল ভেঙেছে দুইবার। বেশি ভাড়া এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কথা স্বীকার করে এই চালক জানান, মাসে কমপক্ষে তিন থেকে চারবার গাড়ি গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে মেরামত করতে হয় তাই বাধ্য হয়েই বেশি ভাড়া এবং অধিক যাত্রী বহন করি। ভাঙ্গাচূড়া রাস্তা আর গাড়ি স্বল্পতার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন স্থানীয় ভুনবীর শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর এলাকার প্রাচীনতম বিদ্যাপিঠ ভুনবীর দশরথ হাই স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।

পরিবহন ব্যবস্থাটাই প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে অত্র এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রাচীনতম এলাকা ভুনবীর মির্জাপুর ও বৌলাশির এলাকায় আশির দশকের শুরুতে প্রথম বাস সার্ভিস চালু হয়। দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী হলেও এখানে কেন্দ্রীয় কোন বাস টার্মিনাল নেই। কিন্তু ৩০ বছরেরও অধিক সময় ধরে এই এলাকার বাসগুলো ছেড়ে যাওয়ার জন্য শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থাপিত হয় মির্জাপুর বাসস্ট্যান্ড। যা আজও শ্রীমঙ্গল শহরের স্টেশন রোডে নতুন বাজারের পাশে মির্জাপুর বাসস্ট্যান্ড নামে সর্বমহলেই সু-পরিচিত। কিন্তু বাসস্ট্যান্ড থাকলেও সেখানে এখন আর বাস থামেনা।

শ্রীমঙ্গল এর প্রাচীনতম বিদ্যাপিঠ ভুনবীর দশরথ হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ঝলক কান্তি চক্রবর্তী জানান, কয়েক বছর আগে শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে মৌলভীবাজার জেলার সাবেক সুযোগ্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুল হাসান মহোদয় দুটি ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ির ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু বাস দুটি চালু হওয়ার কিছুদিন পরই এই সড়কে চালু হয় সিনজিসহ অন্যান্য গাড়ি। ফলে বাস দু'টি যাত্রী না পেয়ে বাধ্য হয়েই বন্ধ হয়ে যায়। ৭/৮ বছর ধরেই এ সড়কের বেশিরভাগ যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
 

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর