মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০১৯   শ্রাবণ ৮ ১৪২৬   ২০ জ্বিলকদ ১৪৪০

১৫৭১

জয় নিশ্চিত না হলেই বর্জনের ঘোষণা?

প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর ২০১৮  

নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে আসার সম্ভাবনা নিশ্চিত না হলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারে বিএনপি। আনুষ্ঠানিকভাবে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আর কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু নির্বাচনের আগে বিভিন্ন অজুহাতে শেষ মুহূর্তে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা আসতে পারে। লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া ঢাকায় বিভিন্ন নেতাকে এরকম ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, ‘নির্বাচন বর্জনের প্রশ্নই ওঠে না।’

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আমরা নির্বাচন করছি। আওয়ামী লীগ চাইছে আমরা যেন, নির্বাচন থেকে সরে যাই। তারা যেন একতরফা একটি প্রহসনের নির্বাচন করে। কিন্তু আমরা সরকারের এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে দেব না। আমরা শেষে পর্যন্ত লড়বো।’

কিন্তু বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, প্রচারণার নামে মাঠে আগে কর্মীদের নামাতে চায় বিএনপি। এরপর নির্বাচন বর্জনের ডাক দিলে ঐ কর্মীরা যেন সবকিছু অচল করে দিতে পারে। তার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। বিএনপির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আমরা যদি নির্বাচন বর্জন করি, তাহলে আমরা নির্বাচন করতে দেবো না।’ ঐ নেতা বলেছেন, নির্বাচনে হারার জন্যে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না।’ একাধিক সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, তৃণমূলের কাছে পাঠানো বার্তায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব দুই প্রস্তুতির কথাই বলেছে। প্রথমত, নির্বাচনের আগে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে, যাতে বিএনপির পক্ষে জোয়ার তৈরি হয়। ভোটের দিন আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করা যায়।

দ্বিতীয়ত যদি প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর চাপে নির্বাচন নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ভোট বর্জন করার প্রস্তুতিও রাখতে বলা হচ্ছে। বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে যে, তাঁরা মনে করছেন, ২০১৪ সালের আন্দোলনে কিছু কৌশলগত ভুল ছিল। দীর্ঘদিন হওয়ায় কর্মীরা আন্দোলন ধরে রাখতে পারেনি। গ্রেপ্তার মামলায় সারাদেশের আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়। বিএনপি মনে করে একটা মেট্রো ‘টর্নেডো’ আন্দোলন সবকিছু ওলট পালট করে দিতে পারে। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন,‘নির্বাচনের প্রচারণার শেষ সাতটা দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যেই সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে। এ কারণেই বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বার বার ভোটে থাকার কথা বলছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না, এমন কথা বলে বিএনপি যেমন আওয়ামী লীগকে বোকা বানিয়েছিল, তেমনি এখন কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন বর্জন করবে না বলে আওয়ামী লীগকে অন্ধকারে রাখতে চাইছে। বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনো বিএনপিতে নির্বাচন বর্জনের শক্তিশালী ধারা রয়েছে। বিএনপির এক নেতা বেশ জোর দিয়েই বললেন ‘ অওয়ামী লীগকে আরেকবার বৈধতা দেয়ার দায়িত্ব বিএনপি নেবে না।’ এজন্যই বিএনপি নির্বাচন নিয়ে তাদের নানা অভিযোগ অব্যাহত রেখেছে।

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর
এই বিভাগের আরো খবর