বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৪ সফর ১৪৪১

২১৬

ঘুম কম হলে কী হয়?

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮  

ঘুম হলো আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। যা আজকাল আমাদের জীবন থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে। অনেকেরই কম ঘুম হয়ে থাকে।

 

কাজের চাপ, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার তাড়া, সেই সঙ্গে মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের কারণে জীবনে ঘুম অনেক কম হয়। ঘুমাতে গেলেও এখন ঘুম আসতে চায় না। এ কম ঘুম আমাদের জীবনে অনেক ধরণের বিপদ ডেকে আনতে পারে।

তাই ঘুম কম হল কী হয়? সে সম্পর্কে জেনে নিন-

কম ঘুমালে মনের ওপর একটা চাপ পড়ে। এ থেকে মানসিক একটা সমস্যা তৈরি হতে পারে। এভাবে কম ঘুমাতে ঘুমাতে একটা সময় বিষন্নতা আসতে থাকবে। এ বিষন্নতা অনেক সময় মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই ঘুম শরীরের জন্য খুবই জরুরী। এ ছাড়াও ঠিক মতো ছয় ঘণ্টা ঘুম না হলে হজমে সমস্যা হতে পারে। আমাদের অধিকাংশ মানুষের মধ্যেই হজমের সমস্যা দেখা যায়। যা-ই খান না কেন হজম হয় না। পেটের সমস্যায় অধিকাংশ মানুষই ভুগে থাকেন। এর একটা বড় কারণ হলো ঘুম কম হওয়া।

 

 

শুধু তাই নয়, কম ঘুমের জন্য মুত্রথলীতে ক্যান্সারও হতে পারে। ছয় থেকে আট ঘণ্টা না ঘুমালে এ ধরণের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো খুবই জরুরী।

 

 

ভালো ঘুম হলে শরীরের ক্লান্তি অনেক কমে যায়। সেই সঙ্গে মস্তিষ্ক সক্রিয় হতে পারে। ঘুম মস্তিষ্কের সেল ধ্বংস হওয়া থেকে রোধ করে থাকে। তাই ঘুম কম হলে আস্তে আস্তে স্মৃতি শক্তি অনেক কমে যাবে। আপনি আস্তে আস্তে সব কিছু ভুলে যাবেন ও ছোট ছোট জিনিসও মনে রাখতে পারবেন না। এ সব সমস্যার একটি প্রধান কারণ হলো ঘুম কম হওয়া।

এক গবেষণা থেকে জানা গেছে যে, ঘুম কম হলে অনেক সময় দেহের ওজন বেড়ে যেতে পারে। কারণ ঘুম কম হলে শরীরে ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। যে কারণে রক্তে শর্করার পরিমাণও অনেক বেড়ে যায়। পরিচিত কারো ওজন বেশি থাকলে জিজ্ঞাস করে দেখবেন, তার ঘুম কম হয়। এ কারণেই তার শরীর মোটা হয়ে যায় বা ওজন বেড়ে যায়। সে সঙ্গে ডায়বেটিস রোগের দেখা দিতে পারে। ঠিক মতো ঘুম না হলে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রাও অনেক বেড়ে যায়।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও খাওয়া দাওয়ার কারণে হার্টের সমস্যা অনেক বেড়ে যাচ্ছে। তার মধ্যে কম ঘুম হলো অন্যতম কারণ। অনেক সময় দেখা যায় যে, খুব অল্প বয়সেই অনেকের স্ট্রোক হয়ে যায়। এর একমাত্র কারণ হলো তারা খুবই মানসিক অস্বস্থিতে ভুগে থাকেন, ঘুম কম হয় ও অধিক পরিমাণে পরিশ্রম করতে হত। মূলত টেনশনের কারণে ঘুম কম হয় আর কম ঘুমের কারণে ডায়বেটিস ও স্ট্রোকের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

ঘুম না হলে অনেক রকম বাজে চিন্তা মাথায় আসতে শুরু করে। যার জন্য মানুষ অনেক রকম মানসিক ভূল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। এটি হলো কম ঘুমের সব থেকে বড় সমস্যা। তাই কখনো অল্প ঘুমানো যাবে না। ঘুমের সময় অল্প করে নিয়ে বাচ্চাকে পড়ানো বা সকাল বেলার কোনো কাজ করবেন। এটা একদম ঠিক নয়। তাই কম পক্ষে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্ট করতে হবে।

তবেই অনেক রকম সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পেতে পারবেন। যদি আপনার কোনো স্মৃতি মনে না পড়ে বা আগের দিনের কথাগুলো ভূলে যেতে শুরু করেন। তবে অবশ্যই ভালো ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে। যদি চেষ্টা করেও ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমাতে না পারেন, তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর