বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৪ সফর ১৪৪১

১৮২

গদখালীতে প্রথম ফুল চাষ শুরু করেছিলেন শের আলী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০১৯  

যশোরের গদখালী ফুলের রাজধানী। গদখালীতে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ শের আলী শুরু করেছিলেন। তার বাবা আবদুর রহমান সরদারের নার্সারি ছিল। ফলদ আর বনজ গাছের চারাই বেশি উৎপাদন করতেন রহমান সরদার। বাবার নার্সারিতে কাজ করতেন শের আলীও। ১৯৮২ সালের এক দিন বিকেলবেলা। শের আলী নার্সারিতে ছিলেন। এক পথচারী পানি খেতে চাইলেন।

শের আলী তাকে পানি এনে দিলেন। পথচারীর হাতে ছিল কিছু রজনীগন্ধা। শের আলীর চোখ এড়াল না। কথায় কথায় জানলেন পথচারীর নাম নূর ইসলাম। যশোর সদরে তার বাড়ি। সেই নূর ইসলামের মারফত শের আলী আড়াই মণ রজনীগন্ধার বীজ পেলেন। নিজের ৩০ শতক জমিতে লাগালেন সব বীজ।

অনেকে বলল, বেশি ভালো কিছু হবে না, শুধু টাকা নষ্ট; কিন্তু শের আলী তখন স্বপ্ন দেখছেন—পুরো দেশ ভরে গেছে ফুলে ফুলে। যাই হোক রজনীগন্ধার ভালো ফলন পেলেন। তারপর এমন সব বীজ জোগাড় করলেন যেসব দেশের মানুষ চিনতই না।

ফুলের দোকান

ঢাকায় তখন রজনীগন্ধা বেশি পাওয়া যেত না। চাঁপা, রঙ্গন বা কাঠগোলাপ কিছু বিক্রি হতো। ফুলের বাজারও বেশি বড় ছিল না। সাধারণত পূজা-পার্বণে লোকে ফুল ব্যবহার করত। তখন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি মালঞ্চ নামে শাহবাগে একটি ফুলের দোকান উদ্বোধন করলেন। দেশের প্রথম বাণিজ্যিক ফুলের দোকান সেটি। শের আলীর রজনীগন্ধা দিয়ে দোকানটির যাত্রা শুরু। শের আলী তত দিনে গ্লাডিওলাস, জারবার ইত্যাদি ফুল উৎপাদনেও সফল হয়েছেন।

রাজধানী গদখালী

যশোর সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে গদখালী। গদখালী থেকে আরো কিছুদূরে পানি সারা গ্রাম। গাঁয়ের সবাই কমবেশি ফুল চাষ করেন। পানি সারার পার্শ্ববর্তী গ্রামের লোকরাও ফুল চাষ করে। প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়। কর্মসংস্থান হয়েছে পাঁচ হাজার লোকের। এ ছাড়া ফুল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত আরো ৫০ হাজার লোক। গদখালীর ফুল ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী, সিলেটসহ ৫৫টি জেলায় যায়। যায় বিদেশেও।

যশোর জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুসারে, ১২০ কোটি পিস ফুল উৎপাদিত হয়। বছরে প্রায় হাজার কোটি টাকার কারবার। ফুল চাষ করে সচ্ছল হয়েছেন এমন লোকের সংখ্যা কম নয় গদখালীতে। শের আলীর দেখানো পথেই এ সচ্ছলতা। তিনি বলেন, ‘এখন ফুলের বাজার অনেক বড়। কিছু দিবস আছে, যেগুলো বলতে গেলে ফুল দিবস।’ উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এক দিনেই গদখালীতে কেনাবেচা হয়েছে ১০ কোটি টাকার ফুল।

শের আলীর সুখ

তখন বাংলাদেশে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ছিলেন ড্যান ডাব্লিউ মজিনা। শের আলীর নার্সারি দেখতে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘শের আলীর ফুল বিশ্বমানের।’ পৃথিবীর ২০টির বেশি দেশ ঘুরেছেন শের আলী। জীবনে কোনো দিন ফুলের বীজ বিক্রি করেননি। অথচ এ থেকে ভালো উপার্জনের সুযোগ ছিল। বললেন, ‘আমি জীবনে কখনো ফুলের বীজ বিক্রি করিনি। যতটা পেরেছি বিতরণ করেছি।’ তিনি স্বপ্ন দেখেন, আমেরিকায় গিয়ে ফুল চাষ করবেন।

বলতে গেলে কিছুই নেই

আধুনিক ফুল সংরক্ষণাগার নেই। গবেষণাগার নেই। উন্নত সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট নেই। খোলা ট্রাকে ফুল পাঠানো হয় নানা জায়গায়। ফুল তোলা, দোকানে নেওয়া এবং ফুলপ্রেমীর হাতে পৌঁছানো—এ রকম নানা ধাপে ফুল নষ্ট হয় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। সুদমুক্ত কৃষিঋণও পাওয়া যায় না। ফুল রপ্তানিতে সরকারি নীতিমালাও নেই। আমাদের এখান থেকে ফুল রপ্তানি হয় সবজি হিসেবে। অথচ সরকারি সহায়তা পেলে রপ্তানি করেই বছরে কোটি ডলার আয় করা সম্ভব।

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর
এই বিভাগের আরো খবর