বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৪ সফর ১৪৪১

১৯৮

কাছের মানুষ ছাড়া অভিমানের মূল্য কেউ দেয় না

প্রকাশিত: ১ ডিসেম্বর ২০১৮  

জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপি করিম। টিভি নাটকের পাশাপাশি ২০০৪ সালে ‘ব্যাচেলর’ ছবির মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় আসেন তিনি। এই ছবির মধ্য দিয়ে সেই সময় তার জনপ্রিয়তা বড় পর্দার দর্শকের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি দারুণ সাড়া ফেলে। তবে সেই ছবির পর দীর্ঘ চৌদ্দ বছরের মধ্যে আর কোনো চলচ্চিত্রে দেখা যায়নি এই অভিনেত্রীকে। চৌদ্দ বছর পর অপি করিম আবারো বড় পর্দায় কাজ করছেন ‘ডেব্রি অব ডিজায়ার’ নামের যৌথ প্রযোজনার একটি ছবির মধ্য দিয়ে। এটি পরিচালনা করছেন কলকাতার নির্মাতা ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী। এই চলচ্চিত্রে কাজ করা প্রসঙ্গে অপি বলেন, ছবিটিতে কাজ করার জন্য বড় ভূমিকা রেখেছে পরিচালকের নামটি।

 

ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরীর ‘ফড়িং’ ও ‘ভালোবাসার শহর’ আমার খুব পছন্দের কাজ।  সে সূত্রেই ‘ডেব্রি অব ডিজায়ার’ ছবিটি করার পেছনে ৬০ ভাগ কারণ পরিচালক। বাকি ৪০ ভাগ চিত্রনাট্য। এ ছাড়া কলকাতার অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তীকে সহশিল্পী হিসেবে পাওয়াও এই ছবিতে রাজি হওয়ার অন্যতম কারণ। আর সব শেষ কারণ দুই বাংলার ছবিতে কাজ করার সুযোগ। এই ছবিতে অপিকে দেখা যাবে সোমা নামের চরিত্রে। গল্পে দেখা যাবে, সোমা মেয়েটি কলকাতার। সে বিবাহিতা। স্বামী আর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তার সংসার। তবে স্বামী বেকার। এ কারণে সন্তানকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াতে চাকরি করে সে। চরিত্রটি নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত বলেও জানান এ অভিনেত্রী। ছবিতে দর্শক অন্য রকম এক অপিকে দেখবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এদিকে এই অভিনেত্রী বর্তমানে টিভি নাটকে অনিয়মিত। টিভি দর্শকরা এখনো প্রতিনিয়ত তার শুন্যতা অনুভব করেন। টিভি নাটকে আগের মতো নেই কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি গেল দশ বছর ধরে শুধু বিশেষ দিবসের দু’একটি নাটকে অভিনয় করেছি। সত্যি বলতে এই সময়ে আমি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল টাইম সময় দিচ্ছি। এছাড়া আমার একটি আর্টি ক্যালসার অফিস রয়েছে সেখানেও আমাকে সময় দিতে হয়। সব মিলিয়ে টিভি নাটকে নিয়মিত অভিনয় করার সেই সময় আমার হাতে নেই। গুণী এই অভিনেত্রীর সঙ্গে টিভি নাটকের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কথা হয়। তার ভাষ্য, আমাদের অনেক গুণী ও মেধাবী শিল্পী আছেন। কিন্তু তাদের যথাযথ ভাবে কাজের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এই সময়ে আমাদের টিভি নাটকে মেধাবী ও গুণী শিল্পীদের ফেরানো প্রয়োজন। তাদের নিয়ে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। টিভি নাটকে নিয়মিত না থাকলেও অভিনয় থেকে দূরে নন বলে জানান অপি। মঞ্চ নাটকের সঙ্গে জড়িত আছেন তিনি। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের হয়ে মঞ্চে অভিনয় করেন। দীর্ঘ সময় শোবিজে আছেন এই অভিনেত্রী। সেই থেকে এই সময়ে বদলে যাওয়া অপির কথা শুনতে চাইলে তিনি  বলেন, আগে আমি খুব সংবেদনশীল ছিলাম। অভিমান হতো মুহূর্তেই। পরে দেখেছি কাছের মানুষ ছাড়া অভিমানের মূল্য কেউ দেয় না। এখন শুধু পরিবারের ওপর অভিমান আর ছাত্রদের ওপর রাগ হয়। আসলে সব দিক থেকেই খানিকটা বদলে দিয়েছে সময়। আমার পেশা, আমার অভিজ্ঞতা, অভিনয়, জীবন যাপন সবই একটু একটু করে বদলে গেছে। আমি এখন সবকিছুই পজিটিভ চিন্তা করি। নেতিবাচক চিন্তা একেবারেই নেই। আলাপনে সর্বশেষ তার স্বামী-সংসার সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আমি আর নির্ঝর এখন সেই সময়ে নেই যা খুশি তা করবো। আমাদের ভালো-মন্দ বোঝার মতো শক্তি আছে। আমরা দু’জন ভালো আছি। আমাদের ভালো থাকতে দিন। 

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর
এই বিভাগের আরো খবর