মঙ্গলবার   ২০ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৫ ১৪২৬   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

১৫৮

‘এখন বন্ধুর সঙ্গেও বন্ধুত্ব হচ্ছে না’

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০১৮  

অভিনয়, মডেলিং ও নাচ এই তিন অঙ্গনেই রয়েছে তার সরব উপস্থিতি।এখন ব্যস্ততার পালে হাওয়া লাগিয়ে দিব্যি চষে বেড়াচ্ছেন রুপালী পর্দায়। দু’বাংলায় অল্প সময়েই হয়েছেন প্রশংসিত। দেশীয় পর্দায় পরিচিত মুখ হলেও, ওপার বাংলায় ‘ষড়রিপু’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে রীতিমত তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। অভিনয়ের মুন্সিয়ানায় মুগ্ধ করেছেন দু’বাংলার চলচ্চিত্র প্রেমীদের। বুঝিয়েছেন ভালো গল্প পেলে নিজেকে নিয়ে কতটা ভাঙ্গা গড়ার খেলায় মত্ত হতে পারেন। বলছিলাম সোহানা সাবা কথা।

সম্প্রতি কলকাতার গুণী নির্মাতা হরনাথ চক্রবর্তীর ‘এপার ওপার’ সিনেমার শুটিং শেষে দেশে ফিরেছেন সাবা। ফিরেই ব্যস্ত হয়েছেন ছোট পর্দায়। ‘তিলোতমাz ’ নাটকের সেটে ব্যস্ততাকে পাশ কাটিয়ে কিছুক্ষণের জন্য মুখোমুখি হলেন  সাংবাদিকদের এর।

জানালেন ‘এপার ওপার’ সিনেমার অভিজ্ঞতা।

সোহানা বলেন, ‘গল্পটা ভারত বাংলাদেশ নিয়ে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার দশ বছর পেছন থেকে শুরু হয় গল্পের প্লট। একটু একটু করে গল্প প্রাণ পায়। গল্পে প্রেম থাকে। বেদনা থাকে। মুক্তিযুদ্ধ থাকে। পুরো গল্প জুড়ে একটা মমতা ছিল। ছিটমহলে এসে গল্পের রাজ্যে দাড়ি টানেন পরিচালক। এক কথায় বলতে গেলে চমৎকার ছিল সে অভিজ্ঞতা। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন একটি কাজ করতে পেরে নিজের কাছেই ভালো লেগেছে। সিনেমায় আমার কো-আর্টিষ্ট হিসাবে অভিনয় করেছে সৌরভ চট্রোপাধ্যায়।’

 

কাজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আর কলকাতার মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই বলেও জানান এ অভিনেত্রী।

সাবা বলেন, ‘পার্থক্যটা আসলে মানুষের সাথে মানুষের। একজন পরিচালকের সাথে যেভাবে কাজ করা যাবে অন্য জনের সাথে তো সেভাবে হবে না। সবার ব্যবস্থাপনা কৌশল এক হয় না। তবে কলকাতার ওরা সবাই অনেক বেশি প্রফেশনাল। তাদের কাছে কাজটিই মূখ্য বিষয়।’

প্রফেশনালিজমের কথা তুলতেই দর্শক নন্দিত এ অভিনেত্রী বলেন, ‘দেশীয় শিল্পীদের থেকে কলকাতার শিল্পীরা বেশি প্রফেশনাল। শুধু শিল্পীরাই নয়, সবাই। এমনকি প্রোডাকশন বয় পর্যন্ত প্রফেশনাল। আমাদের দেশেও বিষয়টি শুরু হয়েছে। অনেক সেটে আমরাও ভালো কাজ করছি। আমার কাছে খুব বেশি পার্থক্য মনে হয়নি। উনিশ কুড়ি মাত্র।’

টিভি পর্দায় কোন ভাবেই আটকে রাখা যাচ্ছে না দর্শকদের। বিদেশী সিরিয়ালই যেন একমাত্র বিনোদনের খোরাক হয়ে উঠেছে। এমন অভিযোগ হরহামেশাই পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে নিজের মত করেই বললেন সাবা, ‘দর্শকদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। আমরা সবাই অস্থির হয়ে আছি। কোন কাজেই মন বসে না আমাদের। মনোযোগ দিয়ে না করছি অভিনয়, না দেখছে দর্শক। কেউই কিছু ঠিক ভাবে দেখছে না। এখন বন্ধুদের সাথেও বন্ধুত্ব হয়ে উঠছে না। অস্থির একটা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি সবাই। যার কারণে কোন কিছুই ভালো লাগছে না।’

দর্শক যদি অস্থির থেকে স্থির হয়। তাহলে আবারো কি বাকের ভাই কিংবা সেকান্দার বক্স এর মত জনপ্রিয় কোন চরিত্র দাড়াবে? উত্তরে হালের জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী বলেন, ‘যখন বাংলাদেশ টেলিভিশন ছাড়া অন্য কোন উপায় ছিল না তখন আমরা বাকে ভাই দেখতাম। কিন্তু সে মাপের কাজ যে এখন হচ্ছে না এমনটি নয়।রেফারেন্স দেওয়ার সময় শুধু বাকের ভাইকেই দেওয়া হয়। ভালো কাজ বোঝার মত সেই স্থিরতা আমাদের মধ্যে নেই।’

নিজের অভিনীত ‘ষড়রিপু’ নিয়েও কথা বলেন এ অভিনেত্রী। বলেন, ‘সিনেমাটি রিলিজ হওয়ার পরে আমি প্রচুর রেসপন্স পেয়েছি দর্শকদের। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই কলকাতায় গিয়ে সিনেমাটি দেখেছে। পাশাপাশি অনেক প্রশংসাও কুড়িঁয়েছি।’

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর
এই বিভাগের আরো খবর