বৃহস্পতিবার   ২৪ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৪ সফর ১৪৪১

৩১৭

একটি ফুলের ওজন ১০ কেজি!

প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০১৯  

বিচিত্র এই পৃথিবীতে ছোট বড় অনেক বিষ্ময়কর জিনিসই আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। কোনো জিনিসের আকার যখন অনেক বৃহৎ হয় তখন তা সহজেই চোখে পড়ে থাকে। জানেন কি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জিনিস কোনগুলো? তবে জেনে নিন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট ১০ টি বৃহৎদায়তন জিনিস। যা আপনার কৌতূহলাকে আরো বিষ্ময়কর করে তুলবে-

 

সেকুইয়্যা ট্রিস

সেকুইয়্যা ট্রিস

সেকুইয়্যা ট্রিস
সর্ববৃহৎ এর এই তালিকায় গাছের নাম জেনে অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়ই! আয়তনের দিক থেকে এই গাছের প্রজিাতিটি সর্বোচ্চ। এই গাছের উচ্চতা ২৮০ ফুট এবং ব্যাস ২৬ ফুট। এক কথায় অন্যান্য গাছের তুলনায় এই প্রজাতির গাছগুলো দৈত্যাকার। ক্যালিফোর্নিয়ার নেভাদা পার্বত্য অঞ্চলে এই গাছের দেখা মিলে। গাছের এই প্রজাতিটি প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বছর ধরে পৃথিবীতে রাজত্ব করছে।

 

সন ডুং কেভ

সন ডুং কেভ

সন ডুং কেভ
গুহা সম্পর্কে জানতে ছোট বড় সকলেরই কৌতূহলের শেষ নেই। আদিম মানুষেরা গুহাতেই বসবাস করত। এমনকি বিভিন্ন গুহাচিত্র থেকে অতীতের অনেক নিদর্শনই মিলেছে। সন ডুং নামক এই গুহাটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গুহা হিসেবে বিবেচিত। ১৯৯১ সালে এটি আবিষ্কৃত হয়। কিন্তু বিশালত্ত্বের ধারনা পাওয়া যায় ২০০৯ সালে। পাঁচ কিলোমিটার লম্বা এই গুহাটির উচ্চতা ৬০৭ ফুট এবং চওড়া ৪৯০ ফুট। এই গুহাটির উপর গবেষণা করে জানা গেছে, এটি প্রাগৈতিহাসিক যুগের। এই গুহার ভিতরের ইকো সিস্টেম সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই গুহাটির মধ্যে নদী, ঝর্ণাসহ জঙ্গল রয়েছে। এমনকি এই গুহার জঙ্গলে এমন সব প্রাণী রয়েছে যা পৃথিবীতে বসবাসরত প্রাণী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

 

র‌্যাফলেসিয়া

র‌্যাফলেসিয়া

র‌্যাফলেসিয়া
এই ফুলটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুল হিসেবে বিবেচিত। এটি একটি মাংসাশী উদ্ভিদ। প্রায় সাড়ে ৩ ফুট চওড়া এই ফুলটির ওজন ১০ কেজিরও বেশি হয়ে থাকে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় ফুল এটি। এই উদ্ভিদটির সম্পূর্ণ নাম হলো র‌্যাফলেসিয়া আর্নলডি। এই ফুল থেকে এক ধরনের গন্ধ নির্গত হয় যা পোকামাকড় ও মাছিদের আকৃষ্ট করে। এই ফুলের মাঝের গর্তে যখন পোকামাকড় বসে ঠিক তখনই ফুলের গাঁয়ে থাকা আঁঠা তাদের শরীরে লেগে যায়। ফুলটি পোকামকড়ের দেহ নির্যাস শুষে নেয়। 

 

প্লাম ব্রুক চেম্বার

প্লাম ব্রুক চেম্বার

প্লাম ব্রুক চেম্বার
স্যান্ডাস্কি ওয়িহোতে অবস্থিত এই চেম্বারটি হলো পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ভ্যাকুয়াম চেম্বার। সেখানে মহাকাশের মতই জিরো গ্র্যাভিটির কন্ডিশন তৈরি করা হয়। সেইসঙ্গে বিভিন্ন রকমের পরীক্ষা-নীরিক্ষাও করা হয়। এর উচ্চতা ১২১ ফুট এবং এর চওড়া ১০০ ফুট। এর মধ্যে একটি সম্পূর্ণ স্পেস ক্রাফট প্রবেশ করতে পারে। 

 

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ
এটি হলো একটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্রবাল প্রাচীর। এতটাই বড় হেরিটেজ যে, আউটার স্পেস থেকেও এটি দেখতে পাওয়া যায়। লিভিং অর্গানিজম এর দ্বারা নির্মিত একটি কাঠামো। ১৪ মাইল জুড়ে বিস্তৃত এটি। ২ হাজার ৯০০ টি রিফ একসঙ্গে যুক্ত করে এর রুপ দেয়া হয়েছে।  

 

সালার ডি ইউনি

সালার ডি ইউনি

সালার ডি ইউনি
সালার ডি ইউনি হলো লবণ দ্বারা সৃষ্ট পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সল্ট লেক। বলিভিয়ার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত এই সমতলভূমি ৪ হাজার ৮৬ মাইল জুড়ে বিস্তৃত। এটি সমূদ্রপৃষ্ট থেকে ৩ হাজার ৬৫৬ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম স্থানের মধ্যে অন্যতম এটি। স্থান দেখলে মনে হবে যেন আকাশ মাটিতে নেমে এসেছে।

 

স্যান আল ফন্সো ডেল মার

স্যান আল ফন্সো ডেল মার

স্যান আল ফন্সো ডেল মার
দিল্লীতে অবস্থিত এই প্রাইভেট হোটেলটির সুইমিং পুলটি হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুইমিং পুল। এর দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৩২৪ ফুট এবং এটি ১২ ফুট গভীর। এতে ৬০ মিলিয়ন ইউএস গ্যালন পানি ধারন ক্ষমতাসম্পন্ন। তবে এতো পানির উৎস কোথায়? প্রশান্ত মহাসাগরের পানিকে শোধন করে এই সুইমিংপুলে পাম্প করা হয়। ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে ৫ বছর সময় লেগেছে এই সুইমিং পুলটি তৈরি করতে। 

 

দুবাই মল

দুবাই মল

দুবাই মল
আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ শপিং মল হলো দ্য দুবাই মল। এটি দুবাইয়ের ২ মিলিয়ন ডলারের ডাউনটাউন অঞ্চলের একটি অংশ। এই শপিং সেন্টারে ১ হাজার ২০০ টি দোকান রয়েছে। এছাড়াও এখানে একটি আন্ডার ওয়াটার জু, স্কিটিং জোন, একটি ঝর্ণা, একটি লাক্সারি হোটেল এবং ১০০ টি ক্যাফে ও রেষ্টুরেন্ট রয়েছে।

 

এমএস হারমনি অব দ্য সি’স

এমএস হারমনি অব দ্য সি’স

এমএস হারমনি অব দ্য সি’স
এই জাহাজটি হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী জাহাজ। এসটিএক্স ফ্রান্স নামের একটি কোম্পানি এই জাহাজটি নির্মাণ করে। রয়্যাল ক্যারিবিয়ান বন্টিারন্যাশনাল নামক একটি কোম্পানির মালিকানাধীন এই জাহাজটির ওজন ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৬৩ টন। এর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১৮৭ ফুট। আইফেল টাওয়ারের চেয়েও উঁচু এই জাহাজটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। জাহাজটিতে  হাজার ৩০৭ জন মানুষ ধারনক্ষমতাসম্পন্ন এবং এতে ১৬ টি ডেক রয়েছে। এছাড়াও এতে ২ হাজার ৫০০ টি কেবিন, ২০ টি রেষ্টুরেন্ট, ২৩ টি সুইমিং পুল, ১টি পার্ক এবং ২ হাজার ১০০ ক্র্যু মেম্বার রয়েছে। এক কথায় এটি একটি ভাসমান শহর। 

 

ডাবল এক্সএল চপার

ডাবল এক্সএল চপার

ডাবল এক্সএল চপার
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বাইক বা মোটর সাইকেল এটি। ৩১ ফুট লম্বা এই বাইকটি ১৫ ফুট উঁচু। এতে ২৮০ হর্স পাওয়ারের স্যাপ্রোলেট ৫ দশমিক ৭ ভি৮ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এটি তৈরি করতে ৭ মাস সময় লেগেছে। এতে ট্রাক্টরের চাঁকা ব্যবহার করা হয়েছে। ঘন্টায় ৬৭ মাইল গতিসম্পন্ন এই বাইকটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ বাইক হিসেবে বিবেচিত।

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর