বুধবার   ২২ মে ২০১৯   জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৬   ১৭ রমজান ১৪৪০

২৩৭

ইভটিজিং কারা করে, কেন করে? উপায় কী প্রতিকারের?

প্রকাশিত: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  

ইভটিজিং-এর অনেক কারণের মধ্যে শিক্ষাহীন অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন, ক্লেদাক্ত পরিবেশে বসবাস, ধর্মীয় রীতিনীতির প্রতি অনাকর্ষণ, বিজাতীয় অপসংস্কৃতি অনুকরণ, আইন-শৃঙ্খলার প্রতি অশ্রদ্ধা, সামাজিক অবক্ষয়, সর্বোপরি পিতামাতার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। আবার অনেক নারীর অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনও এর জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী। তবে এ অপরাধের প্রকোপের জন্য কারণ যাই থাকুক না কেন, একে এখনই কঠোরভাবে রোধ করা প্রয়োজন। ইভটিজিং-এর শিকার কন্যারা যেমন আমাদের সন্তান, তেমনি ইভটিজাররাও আমাদেরই কারো না কারো সন্তান। একটি সন্তান যে পারিবারিক ও সামাজিক আবহে বড় হয়, তার সুস্পষ্ট প্রভাব পড়ে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে। সুতরাং পরিবারকেই সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে সন্তানের উপর সর্বাগ্রে। তার গতিবিধি লক্ষ্য রাখতে হবে। পরিবার থেকেই নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে পুত্র সন্তানতে শিক্ষা দিতে হবে। উপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থাসহ তাকে ধর্মীয় শিক্ষায় আলোকিত করতে হবে।

নারী যদি তার চলাফেরার স্বাধীনতা হারায়, তবে তা দেশের উন্নয়নের জন্য মারাত্মক হুমকি, এতে অর্থনৈতিক উন্নয়নও হতে পারে বাধাগ্রস্ত। উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে সমাজে নারীর চলার পথ সুগম করতে পারে। এ সমাজ কন্যা সন্তানের বাসযোগ্য ও নিরাপদ রাখতে হবে। সে লক্ষ্যে এখনই গ্রহণ করতে হবে উপযুক্ত ব্যবস্থা। তবে, এ রকম বিস্তৃত অপরাধ সমাজ থেকে দূর করতে সরকারের পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ, যা সকল শ্রেণীর মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সম্ভব হতে পারে। পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায়-মহল্লায় আইন-শৃক্মখলা বাহিনীর সদস্য সমন্বয় ভ্রাম্যমাণ ফোর্স গঠন করে টহল ব্যবস্থা জোরদার করা যায়। পাশাপাশি প্রকৃতি অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে তা অন্যান্য অপরাধীকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে সাহায্য করবে।

 

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহকে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে। ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে এ অপরাধের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিসহ নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষা দেয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ গ্রহণ করতে পারে। দেশের মসজিদ, মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। সারাদেশে ঘরে ঘরে কন্যাসন্তান রয়েছে। তাই প্রতিটি ঘর পাহারা দিয়ে কন্যা সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সে কারণে প্রতিটি পরিবারের অভিভাবকদের পরামর্শ দেয়া যেতে পারে তাদের সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য। আর এজন্য প্রচার মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণাসহ সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে নেয়া প্রয়োজন নানামুখি কর্মসূচি। 

আমাদের কন্যা যদি পিছিয়ে পড়ে, যদি সে তার পথ চলার স্বাধীনতা হারায়, যদি সে বন্দী হয়ে রয় ঘরের চৌহদ্দির মধ্যে, তবে তার শিক্ষাগ্রহণ যেমন বাধাগ্রস্ত হবে, তেমনি বাধাগ্রস্ত হবে এদেশের উন্নয়ন। বেগম রোকেয়ার নারীর মুক্তির স্বপ্নও শিক্ষাবিস্তারের এই যুগে পদদলিত হবে। তাই আমাদের এমন একটি সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা হবে আমাদের কন্যাদের জন্য নিরাপদ। সে সমাজে আমাদের পুত্র কন্যারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একে অপরের সহযোগী হয়ে কাজ করতে পারবে, সেখানে আমাদের কন্যানরা আর আত্মহননে প্ররোচিত হবে না কিংবা আমাদের পুত্ররা ‘ইভটিজিং'-এর কলঙ্কে কলঙ্কিত হবে না।

দৈনিক যশোর
দৈনিক যশোর